JITAAce এ আমরা সবসময় সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক খেলাগুলোকে মূল্যায়ন করি। আসুন দেখে নিই কেন এবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে এতো মতভেদ তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনের মূল চারটি কারণ কী।
প্রথমত, হ্যারি কেনের এই Ballon d'Or 2026 winner খেতাব জয় গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্লাবের হয়ে ৬১টি গোল এবং ৭টি অ্যাসিস্ট, সেই সাথে বিশ্বকাপে ৬ গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট—পরিসংখ্যানের দিক থেকে তিনি ছিলেন অনবদ্য। তিনি বুন্দেসলিগা জিতেছেন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছেন। তা সত্ত্বেও, পিএসজি বা স্পেনের মতো বড় আসরের চ্যাম্পিয়ন দল থেকে কেউ এই খেতাব না পাওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, রদ্রি এবং লামিন ইয়ামালের মতো খেলোয়াড়দের অবস্থান। বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের দিকে তাকালে এই দুজনের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছিল। রদ্রি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে গোল্ডেন বল পেলেও, ২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চোটের কারণে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনিয়মিত এবং সিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ১৬ দল থেকেই বিদায় নিয়েছিল। অন্যদিকে, ইয়ামাল বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল করেছেন এবং ক্লাবের পারফরম্যান্সের দিক থেকে তিনি কোনোভাবেই হ্যারি কেনের সমকক্ষ ছিলেন না। তবে স্পেনের লামিন ইয়ামাল পুরুষদের বিভাগে এবং ভিকি লোপেজ মহিলাদের বিভাগে সেরা তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে কোপা ট্রফি লাভ করেন।
তৃতীয়ত, কিলিয়ান এমবাপ্পের শিরোপাহীন যাত্রা। এমবাপ্পে ভোটিংয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ক্লাবের হয়ে ৪২ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট করা সত্ত্বেও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন থাকাটা তাঁর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে তিনি কেনের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও, অন্তত একটি বুন্দেসলিগা শিরোপা কেনের ঝুলিতে থাকায় এমবাপ্পে পিছিয়ে পড়েন।
পরিশেষে, অন্যান্য তারকাদের মিশ্র পারফরম্যান্স। লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড বা খভিচা কভারাতসখেলিয়ার মতো তারকাদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা গেছে। যাদের শিরোপা আছে তাদের পরিসংখ্যান খুব একটা উজ্জ্বল নয়, আর যাদের পরিসংখ্যান ভালো তাদের হাতে কোনো বড় শিরোপা নেই। এমন পরিস্থিতিতে হ্যারি কেন তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর ভর করেই সেরার মুকুট ছিনিয়ে নেন। মহিলাদের বিভাগে অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় ব্যালন ডি'অর জয় করেন। সেরা গোলরক্ষকের সম্মাননা ইয়াশিন ট্রফি জয় করেন উনাই সিমন এবং কাতা কোল। এছাড়া শীর্ষ গোলদাতার সম্মাননা গার্ড মুলার ট্রফি পান হ্যারি কেন এবং চার্লিন কোরাল।